প্রখম পাতা কার্যাবলী সদস্য ফোরাম আমাদের কথা [ Register ]   English
 

শিল্পে দুর্ঘটনা, ক্ষতিপূরণ এবং বিদ্যমান আইন


 

শিল্পে দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণ বিষয়ে প্রচলিত আইনগুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে বলা যায়-

ক্ষতিপূরণ

ক্ষতিপূরণ বলতে সাধারণভাবে আইনের যে ব্যাখ্যা রয়েছে তা হলো- কর্মস্থলে শ্রমিকের কোনো ধরনের গাফিলতি ব্যাতিরেকে কারখানা কর্মপ্রক্রিয়ার কারণে যদি কোনো দুর্ঘটনা সংগঠিত হয় তার ফলে শ্রমিক সাময়িক আহত, দীর্ঘস্থায়ী পঙ্গু এবং মৃত্যুজনিত কোনো দুর্ঘটনায় কবলিত হয়, তবে তার জন্য শিল্পমালিক বা নিয়োগকারী, কর্তৃপক্ষ আইননত ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকিবেন।

  • কর্মস্থলে এ ধরনের দুর্ঘটনার প্রতিনিয়ত সংঘটিত হচ্ছে বলে শিল্পের চাকা সচল রাখার জন্য ক্ষতিপূরণ আইনের প্রবর্তন করা হয়েছে। কেননা, প্রতিটি দুর্ঘটনার  কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ যখন আদালতের শরণাপন্ন হয় তখন বিচার প্রক্রিয়া এবং আইনগত জটিলতার কারণে শিল্পের গতি ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মূলত ক্ষতিপূরণ আইনের আত্মপ্রকাশ যেখানে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে কোনো ধরনের দুর্ঘটনায় কী পরিমাণ ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে।

  • গার্মেন্টস শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে যেভাবে বিষয়টি আইনের আওতায় নিয়ে আসা যাবে তা হলো, স্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় সাময়িক আহত, দীর্ঘস্থায়ী পঙ্গুত্ব ও মৃত্যু কিংবা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা ছাড়াই কাজের সমাপ্তি ঘটান তাহলে তিনি ক্ষতিপূরণের আওতায় আসবেন।

১৯২৩ সালের শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ আইন

ধারা-৮ ক্ষতিপূরণ বণ্টন

দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার কারণে মৃত শ্রমিকের ক্ষতিপূরণের টাকা এবং আইগত দৈহিক অক্ষমতায় ভুগছেন এরূপ কোনো মহিলা বা অন্য কোনো ব্যক্তির ক্ষতিপূরণের এককালীন টাকা কেবল কমিশনারের কাছে জমা দিতে হবে এবং মালিক তা সরাসরি অন্য কোথাও প্রদান করলে তা ক্ষতিপূরণ পরিশোধ বলে গণ্য হবে না। যদি না কোনো শ্রমিক চাকরির মেয়াদকালে আহত হয়ে মৃত্যু হওয়ার কারণে ক্ষতিপূরণের অর্থ গ্রহনের জন্য পোষ্য কোনো ব্যক্তিকে নির্ধারিত পদ্ধতিতে মনোনীত করে থাকেন।

শর্ত হচ্ছে যে, কোনো মৃত শ্রমিকের ক্ষেত্রে যেকোনো নির্ভরশীল ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ বাবদ অনধিক মোট ৫ টাকা অগ্রিম হিসেবে দিতে পারবেন এবং ওই মোট অগ্রিম উক্ত নির্ভরশীল ব্যক্তিকে পরিশোধ্য ক্ষতিপূরণ থেকে বেশি না হলে উক্ত ব্যক্তিকে প্রদত্ত ক্ষতিপূরণ থেকে কমিশনার কেটে রাখবেন এবং মালিককে প্রত্যাপণ করবেন।

ধারা-১০ (খ) প্রাণহানি সংক্রান্ত দুর্ঘটনার রিপোর্ট

১. কারখানায় সংগঠিত দুর্ঘটনার কারণে মৃত্যু হয়ে থাকেন সে সম্পর্কে মালিকের পক্ষে বর্তমানে প্রচলিত কোনো আইন অনুসারে কোনো কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দিতে বাধ্য থাকলে ওই মালিক বা তার ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তি মৃত্যুর সাত দিনের মধ্যে মৃত্যু সংক্রান্ত দুর্ঘটনার বিবরণসংবলিত রিপোর্ট কমিশনারের কাছে পেশ করবেন।

শর্ত হচ্ছে যে, নোটিশ পেশের জন্য সরকার অন্য কোনো কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট করে দিয়ে থাকলে মালিক কমিশনারের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেরিপোর্টপেশকরবেন।

২. সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপনের মধ্যমে যেকোনো শ্রেনীর প্রতিষ্ঠানকে যা আওতায় বাইরে রয়েছে, উপধারা (১)- এর বিধির আওতায় অন্তর্ভূক্ত করতে পারে এবং কমিশনারের কাছে কোনো কোনো ব্যক্তি রিপোর্ট প্রেরণ করবেন তা ওই গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট করে দিতে পারেন।

প্রচলিত ক্ষতিপূরণ শ্রমিকের মৃত্যু, শ্রমিকের স্থায়ী ধরনের দৈহিক অক্ষমতার ক্ষতিপূরণ বিষয়ে যে বিধান রয়েছে তা হলো-


আহত শ্রমিকের মাসিক বেতন

দুর্ঘটনায় প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণ শ্রমিকের মৃত্যু

শ্রমিকের স্থায়ী দৈহিক অক্ষমতা

শ্রমিকের স্থায়ী প্রকৃতির দৈহিক অক্ষমতার ক্ষতিপূরণ বাবদ মাসিক ভাতা

০-১০০
৮,০০০/-
১০,০০০/-

অক্ষমতার সময় অথবা এক বছর, যা কম হয় সেই সময়ের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এ ধরনের ক্ষতিপূরণ প্রথম দুই মাসে পুরো মাসিক বেতন, পরবর্তী দুই-তৃতীয়াংশ এবং পরবর্তী মাসগুলো স্থায়ী পেশাগত রোগের জন্য অক্ষমতার ক্ষতিপূরণ সর্বাধিক দুই বছর পর্যন্ত মাসিক মজুরির অর্ধেক।

১০১-২০০
১২,০০০/-
১৬,০০০/-
২০১-৩০০
১৪,০০০/-
১৯,০০০/-
৩০১-৪০০
১৬,০০০/-
২১,০০০/-
৪০১-৫০০
১৮,০০০/-
২৩,০০০/-
৫০১-ঊর্ধ্বে
২১,০০০/-
৩০,০০০/-

ওপরের সারণি থেকে এটা পরিস্কার যে প্রচলিত ক্ষতিপূরণ আইন একটি প্রায় ১০০ বছরের পুরনো আইন যা দিয়ে কোনোভাবেই আজকের শিল্প দুর্ঘটনা, বিশেষ করে গার্মেন্টসের দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ করা সম্ভব নয়, তাই জরূরিভিত্তিতে দরকার ক্ষতিপূরণ আইনের সংস্কার এবং যুগোপযোগীকরণ।

শ্রমিকের ক্ষতিপূরণের জন্য কেন প্রচলিত আইনের সংশোধন বা নতুন আইন প্রয়োজন:

শ্রমিকের জন্য যে কারণে সময়োপযোগী ক্ষতিপূরণ আইন প্রয়োজন-

  • শ্রমিক কারখানায় কাজ করতে গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হলে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয় তাকে কিছুটা হলেও প্রতিস্থাপনের চেষ্টা

  • ক্ষতিগ্রস্ত বা আঘাতপ্রাপ্ত শ্রমিকের জন্য একটি নির্ধারিত আর্থিক পারিতোষিক প্রদানের ব্যবস্থা

  • দুর্ঘটনা ঘটলে তার ফলাফল হিসেবে শ্রমিকের যে অকল্পনীয় দুর্ভোগ (আর্থিক, শারীরিক ও মানসিক) পোহাতে হয় তার বিপরীতে একটি সুনির্দিষ্ট আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা হলেও প্রতিস্থাপনের নিশ্চয়তা একজন শ্রমিক আহত বা অক্ষম অবস্থায় কাজ করেত পারলো না এর ফলে তার যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, যে মজুরি সে হারিয়েছে, তার একটি অংশ প্রদানে ব্যবস্থা

  • ব্যক্তি হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা প্রমাণ করা ও তার ভিত্তিতে পরিত্রাণ পাওয়ার যে ব্যবস্থা তা দূর হবে

  • ব্যক্তিগতভাবে মামলা করতে হলে তার জন্য যে পরিমাণ অর্থ খচর করতে হয় তা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে

  • মামলার ক্ষেত্রে সময়ের দীর্ঘ সূত্রিতা থেকে মুক্ত হওয়া।

আর. আলম