একটু আরাম-আয়েশে থাকা আর তিনবেলা পেটপুরে খাওয়ার আশায় একদিন যারা গ্রামের ভিটে মাটি ছেড়ে ইট-পাথরের শহরে এসে জীবন ও জীবিকার তাগিদে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ নিয়েছিল, তারা এখন আর ভালো নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি তাদের বেঁচে থাকার সব স্বপ্নকেই ধূলিষ্যাৎ করে দিয়েছে।
মালিকপক্ষের সংগে দরকষাকষি আন্দোলন সংগ্রামের পর গত বছর তাদের বেতন কিছুটা বাড়লেও বিগত ৩-৪ মাসে দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। খোলা আকাশের নিচে যাদের ঠাঁই তাদের কথাতো বাদই দিলাম রীতিমতো গার্মেন্টসের একজন হেলপার থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও একই অবস্থা। মধ্যবিত্তদের অবস্থাতো আরও ভয়াবহ। লোক লজ্জার ভয়ে তারা না পারছে সইতে আর না পারছে বলতে।
গত কয়েকদিনে নারায়গঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে গার্মেন্টস শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের সংগে আলাপকালে তারা জানান, তাদের বর্তমান দূরবস্থার কথা। কেউ কেউ দুবেলা দুমুঠো খেতেও পাননা। নারায়ণগঞ্জে ছোট বড় মিলিয়ে সহস্রাধিক গার্মেন্টস রয়েছে। এসব গার্মেন্টসের সংগে জড়িত রয়েছে আরো একাধিক প্রতিষ্ঠান। এসব মিলিয়ে গার্মেন্টস সংশ্লিষ্ট ১০ লাখ মানুষ ভাল নেই বললে ভুল হবে। নিদারুণ কষ্টে অনেকে একবেলা কিংবা আধাপেট খেয়ে জীবন বাঁচিয়ে রেখেছে। অধিকাংশ শ্রমিকেরই সকালে নাস্তা জুটে না। দিনভর হাড়ভাংগা খাঁটুনি শেষে ভাড়া বাসায় যখন ঘুমাতে যান, তখন তাদের কাছে সেটা আর ঘর মনে হয় না।
এ শিল্পের অধিকাংশরাই ছাপড়া ঘর ভাড়া করে গাদাগাদি করে থাকে। প্রতি দ্রব্যের দাম তাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। শুধু দ্রব্যমূল্য নয়, সেই সঙ্গে বাসা ভাড়া যাতায়াত ভাড়া সবকিছু তাদের বেড়েছে। অথচ আলাপকালে তারা মালিকদের বিরুদ্ধে কোন ক্ষোভ জানায়নি। তারা বলেছেন, বেতন বৃদ্ধি হয়েছে এটা ঠিক নয়। তাদের বক্তব্য সরকারের বেধে দেয়া ন্যূনতম ১৬৩২ টাকা বেতন তারা পাচ্ছে, তবে গার্মেন্টসে কর্মরত শ্রমিকদের ৬০ ভাগই ৫ হাজার টাকার মত বেতন পায়। এ টাকা দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে স্বাচ্ছন্দে তিন বেলা খেয়ে থাকা খুবই কষ্টকর।
তাই দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে তারা আজ দিশেহারা। তাদের আকুতি গার্মেন্টস শ্রমিকদের বাঁচিয়ে রাখার লক্ষ্যে শুধু বিজেএমইএ ও বিকেএমইএর উচিৎ নিজস্ব উদ্যোগে প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে দ্রুততম সময়ে গার্মেন্টস শিল্প যেসব এলাকায় অবস্থিত সেসব এলাকায় শ্রমিকদের জন্য রেশনিং প্রথা চালু করা। ভর্তুকি মূল্যে চাল ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করা। আর এসব ব্যবস্থা করা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে একদিকে শ্রমিকরাতো শেষ হয়ে যাবেই আর শ্রমিকরা না থাকলে শিল্পইবা থাকবে কি করে?
|