আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার লাভের প্রচেষ্টা বহু বছর ধরে চলছে। তবে গত বছর খোদ আমেরিকান একজন কংগ্রেসম্যান জিম ম্যাকডরমেটের আনীত নিউ পার্টনারশিপ ফর ডেভলপমেন্ট অ্যাক্ট বা এনপিডিএ-২০০৭ নামের প্রস্তাবিত একটি বিলের পর সবাই আশাবাদী হয়ে উঠেছিল- বোধ হয় এবার বাংলাদেশের কপাল খুলল।
কিন্তু একটি চরম দু:সংবাদ এসেছে গত সপ্তাহে, আর এটি হল বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত সুবিধাপ্রাপ্তির বিরোধিতা নিয়ে। জানা গেছে, আফ্রিকান ও ক্যারিবিয়ানসহ ১৪টি দেশের ১৫টি প্রভাবশালী জাতীয় সংগঠন এনপিডিএর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের চরম বিরোধিতা করেছে। সিনেটের প্রভাবশালী ওয়েজ এন্ড মিনস কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে একযোগে একটি চিঠি দিয়েছে সংগঠনগুলো।
বিরোধিতাকারী দেশগুলোর প্রায় সবাই ইতিমধ্যে এলডিসি হিসেবে বিশেষ বাজার প্রবেশাধিকার সুবিধা লাভ করেছে আগোয়া বা কাফটা নামক বিলের মাধ্যমে। তাদের যুক্তি, বাংলাদেশ এবং কম্বোডিয়ান গার্মেন্টস ইন্ডাষ্ট্রির ক্যাপাসিটি তাদের চেয়ে অনেক বেশি, তাই শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলেও দুটি দেশের রফতানি বাজার আরো সম্প্রসারিত হবে। ফলে কাফটা এবং আগোয়া সুবিধা লাভকারী ছোট ছোট পোশাক রফতানিকারক দেশগুলোর বাজার ছোট করে ফেলবে। তারা এমনও যুক্তি দেখিয়েছে যে, বাংলাদেশ এবং কম্বোডিয়ার শুল্কমুক্ত সুবিধা মূলত চীনকে লাভবান করবে, কারণ এ দেশ দুটি চীন থেকে বিপুল পরিমাণ কাপড় ও সুতা আমদানি করে থাকে।
উল্লেখ্য, ১৫টি দেশের এ যুক্তি অনেকাংশেই দুর্বল। কারণ, বাংলাদেশ চীন থেকে খুবই স্বল্প পরিমাণ সুতা আমদানি করে থাকে, আর এর কাপড় আমাদানিও কমছে দিনে দিনে। কিন্তু কথা হল, কেন ১৪টি দেশ একযোগে বাংলাদেশের বিরোধিতায় নামল। প্রায় এক বছরের বেশি হল এনপিডিএ বিলটি প্রস্তাবিত হয়েছে। এর মধ্যে আমাদের তেমন কোন কূটনৈতিক তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি আফ্রিকান এবং ক্যারিবিয়ান দেশগুলোকে আমাদের পক্ষে আনার জন্য। এ দেশগুলো বোঝানোর সুযোগ ছিল যে, বাংলাদেশের সুবিধাপ্রাপ্তি তাদের জন্য কোন ক্ষতির কারণ হবে না বরং বাংলাদেশ এবং কম্বোডিয়ার বাজার সম্প্রসারণ মার্কিন বাজারে চীনের আধিপত্যকেই চ্যালেঞ্জ করবে।
প্রকারান্তরে তা অন্য ছোট ছোট রফতানিকারক দেশের জন্য উৎসাহের কারণ হবে এবং রফতানি প্রবৃদ্ধিরও কারণ হবে। আর আশংকাও ফেলে দেয়া যায় না যে, হয়তো উপমহাদেশসহ এশিয়ান আরও কিছু দেশ বাংলাদেশের বিরোধিতার জন্য ভেতরে ভেতরে কাজ করেছে। হয়তো গোপন কূটনীতির মাধ্যমে তারা অন্য এলডিসিগুলোকে উস্কে দিয়েছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। কারণ অতি সস্তায় তৈরি পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশের প্রবল প্রতিযোগিতায়মূল ক্ষমতা অনেকের জন্য উদ্বেগের কারণ।
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির নেতারা মনে করেন, কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর সময় এখনও শেষ হয়নি। সরকার এখনও বিশেষ উদ্যোগ নিতে পারে, দেশের প্রধান রফতানি খাতের একটি বিশেষ সুযোগ বাস্তবায়ন করার ব্যাপারে।
|