বর্জ্য শোধনাগারের উপকরণ আমাদানি শুল্কমুক্ত করার দাবি
তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) অবস্থিত কারখানাগুলোর মতো সুযোগ-সুবিধা চেয়েছে। সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, ইপিজেডের বাইরের কারখানাগুলোকে একই ধরণের সুযোগ দেওয়া হলে স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিতি পাবে।
দাবির সপক্ষে যুক্তি হিসেবে ব্যবসায়ী নেতারা বলেছেন, চলতি বছরের জুনে পোশাক খাতের ওপর থেকে কর অবকাশসুবিধা উঠে যাবে। কিন্তু ইপিজেডের কারখানাগুলোকে ১০ বছরের জন্য কর অবকাশ দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় বাইরের কারখানাগুলো একটা অসম প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়বে। এ জন্য পোশাক শিল্প খাতে কর অবকাশসুবিধা বহাল রাখা প্রয়োজন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উদ্যোগে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনার তৃতীয় দিনে তৈরি পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ এ খাতের পশ্চাৎমুখী সংযোগ শিল্প মালিকেরা গতকাল বুধবার এসব দাবি তুলে ধরেন।
এনবিআরের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিকেএমইএর সভাপতি ফজলুল হক, বিজিএমইএর প্রতিনিধি রাশেদ আলম চৌধুরী, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বক্তব্য দেন। এ সময় এনবিআরের সদস্য আহমেদ আলী, পারসা বেগম, এমদাদুল হক উপস্থিত ছিলেন।
আবদুল মজিদ ব্যবসায়ীদের দাবির জবাবে বলেন, সরকারের আন্তরিকতার অভাব নেই। কিন্তু অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তথ্যের অভাব যেমন আছে, তেমনি রাজস্ব আহরণেও ঘাটতি আছে। তাই সব কিছু বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
ফজলুল হক বলেন, নিট এখন দেশের একক বৃহত্তম রপ্তানি খাত। এ খাতের প্রবৃদ্ধির হারও সবচেয়ে বেশি। সরকারের সহযোগিতা পেলে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নিট রপ্তানিকারক দেশ হবে বাংলাদেশ।
তিনি বেনাপোল বন্দর দিয়ে সুতা আমদানির ক্ষেত্রে নানা হয়রানিমূলক প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করে যত দ্রুত সম্ভব, তা বন্ধ করার দাবি করেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দ দিয়ে সুতা আনলে কোনো পরীক্ষা করা হয় না। কিন্তু বেনাপোল বন্দর দিয়ে সুতা আনলে পরীক্ষা করা হয়। এ ছাড়া কারখানা পর্যন্ত সুতা পৌঁছাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পাহারাদার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এটা উদ্যোগক্তাদের জন্য চরম অবমাননাকর।
ফজলুল হক আরও বলেন, যন্ত্রপাতির উৎপাদনক্ষমতা অনুযায়ী বন্ডেড সুবিধা না দিয়ে রপ্তানির পরিমাণ বুঝে দেওয়া উচিত। এ ছাড়া নগদ সহায়তা পাঁচ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করারও দাবি তোলেন তিনি।
রাশেদ আলম চৌধুরী পোশাক কারখানার যন্ত্রাংশ ও বর্জ্য শোধনাগারের উপকরণ আমদানি শুল্কমুক্ত করার দাবি জানা। পুনরায় বিনিয়োগ করমুক্ত করা ছাড়াও দ্বৈত করের জটিলতা এড়াতে সাব-কন্ট্রাক্ট করমুক্ত করার সুপারিশ করেন তিনি।
গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পোশাক খাতের জন্য প্রযুক্তি হালনাগাদকরণ তহবিল গঠন করা জরুরি। ভারতে এ ধরণের তহবিল রয়েছে এবং প্রতিবছর এর আকার বাড়ানো হচ্ছে।
|