নানা সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ পোশাক শিল্প কঠিন প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হইতে যাইতেছে। বিশ্বের পোশাক শিল্পের বাজারে বাংলাদেশের অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী হইয়া গিয়াছে এবং তাহারা নিজেদের সামর্থ্য বৃদ্ধি করিয়া চলিয়াছে। চীন তো আগে হইতেই এই প্রতিযোগিতায় ছিল। ভারত ও পাকিস্তানও খুব পিছাইয়া ছিল না। এইদিকে ভিয়েতনাম পোশাকের বাজারে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হইয়াছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকিয়া থাকিতে হইলে বাংলাদেশের এই শিল্পখাতটিকে চাহিদার প্রকৃতির সহিত তাল মিলাইয়া উৎপাদন তো বাড়াইতে হইবে, সেইসঙ্গে খুঁজিয়া বাহির করিতে হইবে নূতন নূতন বাজার।
প্রসঙ্গত এইখানে উল্লেখ করা বাঞ্ছনীয় যে, বিশ্ববাজারে পোশাক ব্যবহারকারীদের চাহিদার প্রকৃতি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বদলাইয়া গিয়াছে অনেকটাই। নূতন নূতন ডিজাইনের প্রতি খরিদদাররা আকৃষ্ট হইবে ইহাই স্বাভাবিক। অন্যদিকে, বাজারে প্রতিযোগীতার সংখ্যা বাড়িয়া যাওয়ায় পোশাকের কোয়ালিটির বিষয়টিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ হইয়া দেখা দিয়াছে। যে দেশ সবচাইতে ভাল মানের জিনিস তুলনামূলক কম দামে দিতে পারিবে, সেই দেশের প্রতি আমদানিকারকরা ঝুঁকিবে সঙ্গত কারণেই।
এমতাবস্থায় বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরে উৎপাদন বাড়াইবার পাশাপাশি নব নূতন ডিজাইন আনয়ন এবং প্রোডাক্টের মানোন্নয়নের দিকে মনোযোগ দিতে হইবে। গার্মেন্টস কর্মীদের প্রোডাক্টিভিটি বৃদ্ধি করিতে হইলে তাহাদের পেশাগত দাবি-দাওয়া পূরণ এবং সন্তুষ্টির বিষয়টিও দেখিতে হইবে গুরুত্বের সহিত। কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও থাকা দরকার।
|