প্রখম পাতা কার্যাবলী সদস্য ফোরাম আমাদের কথা [ Register ]   English
 

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মন্ত্রী পর্যায়ের ষষ্ঠ সম্মেলনে অকৃষিজাত পণ্যের বাজার প্রবেশাধিকার (NAMA) আলোচনা: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প শ্রমিকদের জীবিকার নিরাপত্তায় একটি অমীমাংসিত বিষয়


নামা কী?

অকৃষিজাত পণ্যের বাজার প্রবেশাধিকার নামা (Non Agricultural Market Access) NAMA হচ্ছে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার রূপায়িত, কৃষি চুক্তির আওতার বাইরে, শিল্প পণ্যসহ সকল অকৃষিজাত পণ্যের বাজার প্রবেশাধিকার বিষয়ক চলমান বাণিজ্য আলোচনা। মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দেশ কাতারের রাজধানী দোহায় ২০০১ সালের, নভেম্বর মাসে, অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের, সম্মত ঘোষণায়, বাধ্যতামূলকভাবে এ নামা আলোচনা অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছিলো, বাণিজ্যকে অধিকতর উদারীকরণের মাধ্যমে, উন্নয়নশীল এবং স্বল্পোন্নতদেশ সমূহের বাণিজ্যিক কল্যাণ বৃদ্ধির কথা বলে। কিন্তু ২০০৪ সালে জুলাই মাসে 'জুলাই প্যাকেজ' মোড়ক নামা আলোচনার মূল উদ্দেশ্যকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে এর ভবিষ্যত আলোচনাকে চরম অনিশ্চয়তার মুখোমুখি দাড় করিয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আসন্ন হংকং এ অনুষ্ঠেয় মন্ত্রী সম্মেলনের নামা বিষয়ক আলোচনা যদি অনুমোদিত হয় তবে অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সাথে সাথে বাংলাদেশ ও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর ফলে বাংলাদেশের মত দেশের সরকারের বাণিজ্য লেনদেনে ভারসাম্যহীনতা, কর ও শুল্কের আয় সংকুচিত হবার মাধ্যমে রাজস্ব আয় কমে যাবে যার নেতিবাচক প্রভাব গিয়ে পড়বে শ্রমিকের ওপর এর ফলে উন্নয়নের আবশ্যিক উপাদান শিল্পায়নের গতি ব্যাহত হবে। নামা সংক্রান্ত আলোচনাকে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স্বার্থের পক্ষে নিয়ে আসা ও এ খাতে বিরাজমান বাঁধা কমিয়ে আনার ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বিশ্ব বাণিজ্যে অংশিদারিত্ব এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কর্মসংস্থান, জাতীয় উত্‍পাদন,সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিষয়টি।

নামা আলোচনার মূল লক্ষ্য কী কী

শিল্পভিত্তিক বাণিজ্য উদারীকরণ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতাকে বজায় রাখা যা কার্যত ১৯৪৭ সালে শুরূ হওয়া শুল্ক ও বাণিজ্য সংক্রান্ত সাধারন চুক্তির (গ্যাট) মাধ্যমে শুরূ করে আলোচনাকে পর্যায়ক্রমিক ধাপে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সীমান্ত প্রতিবন্ধকতাসমূহ বিশেষত শুল্ক এবং শিল্প পণ্যের ও পর বিদ্যামান অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে আনা।

নামা আলোচনায় তালিকাভূক্ত পণ্যসমূহ আবশ্যিকভাবেই শিল্প পণ্য, তবে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা নামার আলোচনার মাধ্যমে স্বল্পোন্নত দেশগুলোরস্থ ভৌগলিক সীমারেখার আওতায় থাকা প্রাকৃতিক সম্পদকেও বাণিজ্যিক আলোচনায় এনে এসব দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এরই উদাহরণ হচ্ছে, নিন্মলিখিত প্রাকৃতিক সম্পদকেও ডব্লিউটিও বাণিজ্যিক পণ্যের অন্তর্ভুক্ত করেছে, প্রাকৃতিক সম্পদগুলোর মধ্যে রয়েছে-

  • মত্‍স্য সম্পদ

  • বনজ সম্পদ

  • মূল্যবান পাথর-রত্ন

  • খনিজ সম্পদ

নামার বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশের ওপর যেভাবে প্রভাব পড়বে-

  • স্বল্পোন্নত দেশগুলো কার্যকর শিল্পনীতি করতে পারবে না এবং তাদের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্থ করবে

  • স্বল্পোন্নত দেশগুলো বাণিজ্য ও রাজস্ব আয়ের মাধ্যমে দেশের সম্পদ সংগ্রহ করে। নামার মতো আলোচনায় এসব দেশের এ ধরনের সম্পদ সংগ্রহের ধারা ব্যাহত হবে। ফলে দেশগুলোর অশিল্পায়নের মাত্রা বেড়ে যাবে। আর এর অনুষঙ্গ হিসেবে ওই সব দেশের বেকারত্ব, পরিবেশ রক্ষায় ঝুঁকি বাড়তেই থাকবে।

  • উন্নত দেশগুলো বহিআমাদনির বেলায় তাদের নিজস্ব বাজারে অতিরিক্ত শুল্ক আরো করে সংরক্ষণবাদ এর মতো নীতি এখনো চালু রেখেছে। ফলে স্বল্পোন্নত দেশের পক্ষে পণ্য নিয়ে ওই সব দেশের বাজারে ঢোকা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে স্বল্পোন্নত দেশে শিল্পায়ন হচ্ছে না। আর শিল্প না ওয়ার ফলে দেশগুলো বিশ্ব বাণিজ্যের মাধ্যমে লাভবান হতে পারছে না, কমছে না তাদের দারিদ্র। নামা আলোচনা এ অবস্থা আরো জটিল করে তুলতে যাচ্ছে।

  • উন্নয়নশীল সদস্য রাষ্ট্রসমূহের জন্য বিশেষ ও পার্থক্যমূলক বাণিজ্য সুবিধার নীতি ও তুলনামূলক শুল্ক উদারীকরণের সুযোগ দিতে শিল্পোন্নত দেশগুলো ব্যর্থ হবে।