তৈরি পোশক শিল্পের ব্যাপারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরামর্শের প্রতি গা ছাড়া মনোভাব দেখনো যাবেনা
কিছুটা শঙ্কিত মনে আমরা লক্ষ্য করছি, সাম্প্রতিক ধ্বংসযজ্ঞের পর অল্প সময়ের মধ্যে কারখানা মালিক, শ্রমিক এবং সরকারের সাথে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তির পরও এ শিল্পে কোনো কোনো জায়গায় বিশৃংখলা বিরাজ করছে। আমরা মনে করি, সম্ভবত সমঝোতা চুক্তির সদিচ্ছার বার্তা দেশের সমস্যা কবলিত সব কারখানায় পৌঁছে নাই।
তবে বাণিজ্যমন্ত্রী সবার মনে এই বলে আশা জাগিয়েছেন যে, গার্মেন্স মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে আগামী এক বছরের মধে তাদের কারখানা কমপ্লায়েন্স উপযোগী করতে অবকাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হবে এবং নবগঠিত ওয়েজ বোর্ড শ্রমিকদের জন্য সন্তোষজনক বেতন নির্ধারণ করবে। এখানে আমরা একটা বিষয়ে জোর দিতে চাই যে ওয়েজ বোর্ড নিজের মতো করে কাজ করুক। তবে অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য সরকার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ভাতার ঘোষণা দিতে পারে যেন শ্রমিকরা দূরবস্থা থেকে উত্তরণের ব্যাপারে আশ্বস্ত থাকতে পারে।
আমরা আরো বলতে চাই যে, এখন শ্রমিকদের উচিত তারা জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে গুরূত্ব দেবে এবং নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করবে। তারা তাদের ক্ষোভের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছে কিন্তু এখন থেকে ক্ষোভ প্রকাশের ধ্বংসাত্বক পদ্ধতি থেকে বিরত থেকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত।
বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে সম্প্রতি এক মত বিনিময়কালে ইউরোপীয় কমিশন (ইসি) প্রতিনিধি দল কিছু উচিত কথা বলেছেন। অন্যান্য বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তারা খুবই নিন্ম বেতন কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং কারখানাগুলোতে কাজের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে ইউরোপীয় কমিশনের রাষ্ট্রদূত জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশের ক্রেতারা শতভাগ কমপ্লায়েন্স শর্তসমূহের ব্যাপারে খুবই স্পর্শকাতর। ইসি রাষ্টদূত খুব খোলামেলা আলোচনায় ইঙ্গিত দেন, বিষয়গুলোর যদি উন্নতি না হয়, ক্রেতাদের বাংলাদেশ ছেড়ে অনত্র যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ হিসেবে তিনি পরামর্শ দেন জাতীয় সংলাপ আয়োজনের। যাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ অংশ নিয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যার দ্রুত সমাধানে পৌঁছতে পারেন। বেশ কিছুদিন ধরে এ বিষয়টিকে আমরা জরুরি হিসেবে বলে আসছি।
বড় ক্রেতাদের কাছ থেকে যে সংকেত আসছে আসলেই তা অশুভ সংকেত এবং এটিকে গাছাড়াভাবে নেওয়া যাবেনা। আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে তৈরি পোশাক শিল্পের অবদানের গুরূত্বকে বিবেচনা করতে হবে। অত্যন্ত গুরূত্বের সাথে মনে রাখতে হবে যদি বড় ক্রেতারা মুখ ঘুরিয়ে নেয় তাহলে দেশের অর্থনীতি বিপর্যয়ে পড়বে।