প্রখম পাতা কার্যাবলী সদস্য ফোরাম আমাদের কথা [ Register ]   English
 

কারখানায় শ্রমিকবান্ধব পরিবেশ না থাকায় দূর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে

 

গার্মেন্টসসহ দেশের সব শিল্প-কারখানার কর্ম পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংকটজনক। বিভিন্ন বিদেশী বিনিয়োগকারী, শ্রমিক সংগঠনসহ বিভিন্ন সহলের বারবার শর্ত ও অনুরোধ সত্ত্বেও শিল্প-কারখানাগুলোতে গড়ে ওঠেনি শ্রমিকবান্ধব পরিবেশ। তাই বারাবার দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা যাচ্ছেন হাজার হাজার শ্রমিক। সেন্টার ফল পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)আয়োজিত নাগরিক সংলাপে বক্তারা একথা বলেন।

সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত শিল্প শ্রমিকদের কর্ম পরিবেশে নিরাপত্তা:

আমাদের কি কিছুই করণীয় নেই' শীর্ষক এই নাগরিক সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান। আন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনিসুল হক, এস এম ফজলুল হক, শ্রম অধিদপ্তরের উপ-শ্রম পরিচালক কবীর আহমেদ চৌধুরী, যুগ্মসচিব গোলাম হোসেন, বাংলাদেশ ইউমেন এন্টারপ্রিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাসরিন আওয়াল মিন্টু, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন, কর্মজীবী নারীর সভাপতি শিরিন আক্তার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. নাসরীন খন্দকার, বিলস-এর সভাপতি সৈয়দ জাফর সাজ্জাদ, শ্রমিক প্রতিনিধি নাজমা আক্তার প্রমুখ। সংলাপ সঞ্চালন করেন সিপিডির নর্বাহী পরিচালক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

বক্তারা শিল্প শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন। তারা বলেন, শিল্প-কারখানা শ্রমিকদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারকেই জরূরি ভিত্তিতে এগিয়ে এসে দায়িত্ব নিতে হবে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, শিল্প ক্ষেত্রে এই সংকট থেকে উত্তরণের প্রধান দায়িত্ব সরকারের। সরকারকে গুরূত্ব সহকারে বিদ্যমান সংশ্লিষ্ট আইনগুলোর দুর্বল প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি শিল্প-কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের মজুরি, কর্ম পরিবেশ ও নিরাপত্তাসহ শ্রমিক স্বার্থ নিশ্চিতকরণে মালিকদের বাধ্য করতে ট্রেড ইউনিয়ন ও সুশীল সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

আনিসুল হক বলেন, শিল্প শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার্থে এবং সম্প্রতি যে ভয়াবহ দূর্ঘটনাগুলো ঘটেছে সেগুলোর যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে বিষয়ে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে গুরূত্ব সহকারে উদ্যোগ নিতে হবে।

ড. নাসরিন খন্দকার শ্রমিক স্বার্থ রক্ষায় সুশীলসমাজের সমন্বয়ে শিল্প কমিশন গঠনের ওপর গুরূত্ব দেন। এই কমিশন শ্রমিকদের অভিযোগ ও সেগুলো সমাধানের মাধ্যমে হিসেবে কাজ করবে। শিল্প কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে বক্তারা অনেকেই একমত পোষণ করেন। তবে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, শিল্প কমিশন গঠন বাঞ্জনীয় হলেও আসন্ন নির্বাচনের আগেই তা গঠিত হলে তা কতখানি সমস্যার সুরাহা করতে পারবে সেটাও ভেবে দেখতে হবে।

অধ্যাপক রেহমান সোবাহান বলেন, সংলাপে প্রাপ্ত সুপারিশগুলোকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হবে, যাতে দাবিগুলো নির্বাচনী ইশতেহারে স্থান পায় এবং আগামী দিনের সরকার যেন এসব দাবি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসে।