|
১৩ দাবি সংবলিত ১৬ দফার ঢাকা ঘোষণা
১৩টি সংবলিত ১৬ দফা ঢাকা ঘোষণা সর্বসম্মতভাবে
গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে তিনদিনের এলডিসি বাণিজ্য সম্মেলন শেষ হয়েছে। এ প্রসঙ্গে
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ঢাকা ঘোষণায় বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে এবং
এ দেশ সবচেয়ে লাভবান হবে। সমানের ডাবলীউটিও'র সম্মেলনে ঢাকা ঘোষণার দাবিসমূহ
ঐক্যবদ্ধভাবে তুলে ধরা হবে। তিনি আর বলেন, কোন বিষয়ে সমস্যা দেখা দিলে এককভাবে
কোন আলোচনা করবে না। সমস্যাটি প্রথমে এলডিসিতে আলোচিত হবে এবং এলডিসি
ঐক্যবদ্ধভাবে তা ডাব্লিউটিওতে উত্থাপন করবে।
এলিডিসি'র পক্ষ থেকে উন্নত বিশ্বের কাছে যে ১৩টি
দাবি করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে
১, বিশ্ব বাণিজ্য স্বল্পোন্নত দেশের
বাজার শেয়ার বাড়ানোর লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি, বাস্তবভিত্তিক, নমনীয় এবং সহজতর রূলস অব
অরিজিন প্রবর্তনের মাধ্যমে এসব দেশের সকল পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত
বাজার সুবিধা দিতে হবে। ২, কানকুন সম্মেলন মেয়াদে সকল বাস্তবায়নযোগ্য
ইস্যু সমাধান এবং স্বল্পোন্নত দেশের প্রান্তিকীকরণ প্রক্রিয়া ঠেকানোর লক্ষ্যে
স্পেশাল ত্র্যান্ড ডিফারেন্সিয়াল ট্রিটমেন্ট প্রথামর ব্যাপক প্রসার ঘটাতে হবে।
৩, মেডে ৪-এর অধীনে পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি প্রদান ভিসা প্রদান, পদ্ধতি সহজ করা
এবং ইকোনমিক নিড টেস্ট-এর প্রশ্ন না তুলে উন্নত দেশের শ্রমের চলাচল বিশেষ করে
অদক্ষ ও অর্ধদক্ষ সেবাদানকারীদের অস্থায়ী ভিত্তিতে অবাধ যাতায়ত নিশ্চিত করতে হবে।
৪, স্বল্পোন্নত দেশের নিজস্ব অগ্রগতি, আর্থিক ও বাণিজ্যিক চাহিদা কিংবা
প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্টানিক ক্ষমতা অনুযায়ী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া এবং বাধ্যবাধকতা
পালন করার বিষয়ে নমনীয়তা থাকার বিষয়টি অনুমোদন করতে হবে।
৫, স্বল্পোন্নত দেশের উত্পাদন ও
রফতানিভিত্তিক উন্নয়ন, শিক্তিশালীকরণ, ও বহুমূখীকরণ এবং সেই সঙ্গে প্রাতিষ্টানিক ও
সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা পর্যাপ্ত পরিমাণে বাড়াতে হবে।
৬, অধিকতর অর্থায়নের মাধ্যমে আইএমএফ পদ্ধতি শক্তিশালীকরণ যাতে স্বল্পোন্নত
দেশসমূহ তাদের সাপ্লাই সাইডের বাধাসমূহ দূর করে তাদের রফতানি ভিত্তি সম্প্রসারিত
করেত পারে এবং সেই সঙ্গে আর্থিক সম্পদের অধিকতর প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য
বিদ্যমান পদ্ধতি সহজ করতে পারে। ৭, স্বল্পোন্নত দেশসমূহের রফতানিকে
ত্র্যান্টি-ডাস্পিং, কাউন্টার ডেইলিং ও নিরাপত্তা রক্ষার ব্যবস্থার আওতায় বাইরে
রাখতে হবে। ৮, এমএফএন শুল্ক কমনোর কারণে অগ্রাধিকার মার্জিন হ্রাস পাওয়ার
বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সমাধানের জন্য যথাযথ ক্ষতিপুরণমূলক পদ্ধতি ও অন্যান্য
কার্যক্রম উদ্ভাবন করতে হবে। ৯, ডাব্লিউটিরও জেনারেল কাউন্সিল কর্তৃক গৃহীত
বিশ্বাবাণিজ্য সংস্থায় স্বল্পোন্নত দেশের প্রবেশাধিকার নীতিমালা দ্রুত কার্যকর ও
পূর্নাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে। ১০, স্বল্পোন্নত দেশের উন্নয়নে সিঙ্গাপুর
ইস্যুর প্রভাব নিরূপণের লক্ষ্যে কারিগরি কার্যক্রম ও সমীক্ষা অব্যাহত রাখতে হবে।
১১, স্বল্পোন্নত দেশকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে এসব দেশের সহজাত সমস্যা
(যেমন, ক্ষুদ্র অর্থনীতি, চতুর্দিকে ভূমি-বেষ্টিত অবস্থা এবং চরম দুর্দশা)
উত্তরণে কৌশল উদ্ভাবন করতে হবে। ১২, জেনেরিক সম্পদ, প্রচলিত জ্ঞান ও কৃষকের
অধিকার সংরক্ষণ এবং সকল জীবিত বস্তুর স্বত্বাধিকার ট্রিপস চুক্তিতে অন্তর্ভূক্ত না
হওয়া নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক কৌশল বলবত্ রাখতে হবে। ১৩, রোগের
ব্যাপ্তিসীমার ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ না করে স্বল্পোন্নত দেশ যারা বাদ্যতামূলক
লাইসেন্সিং পদ্ধতি অনুসরণে সমস্যার সম্মূখীন হচ্ছে তাদের জন্য একটি বিধিসম্মত
সমাধান নির্ধারণ করতে হবে।
এলডিসির ১৬ দফা ঘোষণার
প্রথম দফায়: ডব্লিউটিওর কানকুন সম্মেলনে অভিন্ন
অবস্থান নেওয়া লক্ষ্যে ঢাকা সম্মেলনে মিলিত হওয়ার কথা বলা হয়।
দ্বিতীয় দফায়: মারাকেশ চুক্তির ভিত্তিতে
প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার মূলনীতি ও উদ্দেশ্যের প্রতি দৃঢ় প্রত্যয় এবং
এলডিসির উন্নয়নে চাহিদা পুরণে নিয়মভিত্তক বহু পক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থা আর সৃসংগঠিত
হওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়।
তৃতীয় দফায়: দোহা মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের
অব্যবহিত আগে তাঞ্জানিয়ার জাঞ্জিবারে অনুষ্ঠিত এলডিসি বাণিজ্যমন্ত্রীদের সম্মেলনে
গৃহীত জাঞ্জিবার ঘোষনার প্রতি পুন:প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
চতুর্থ দফায়: উন্নয়ন বিষয়াদিসহ কিছু বিষয়ে
এলডিসির জন্য দোহা মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত সঠিক বাস্তবায়ন ও এ
সংক্রান্ত নির্ধারিত সময়সীমা অনুসরণে ব্যর্থ হওয়ার এবং সে বিষয়ে দোহার ঘোষণাপত্র
অনুযায়ী অগ্রগতি সাধিত না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। s
পঞ্চম দফায়: বিশ্ব বাণিজ্যে এলডিসির বাজার শেয়ার
ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাওয়ায় পরিপ্রেক্ষিতে সদস্য দেশসমূহ এ সমস্যা নিরসেনর বারবার
তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা সত্ত্বেও বহুপক্ষীয় বাণিজ্যে এলডিসির
মার্জিনালাইজেশন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
ষষ্ট দফায়: বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থা ও বিশ্ব
অর্থনীতিতে এলডিসি যাতে উপকৃত এবং কার্যকরভাবে সমন্বিত হতে পারে সে জন্য এলডিসিকে
সহায়তা দেয়ার জন্য মারাকেশ, সিঙ্গাপুর, জেনেভায় অনুষ্ঠিত বাণিজ্যমন্ত্রীদের সভায়
এলডিসির স্বার্থ সংরক্ষণ বিষয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সভায় এলডিসির বিষয়ে ব্রাসেলসে
অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতিসংঘ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি
বাস্তবায়নের ধীরগতিতে হতাশা ব্যক্ত করা হয়।
সপ্তম দফায়: দোহা সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে ট্রিপস
ও জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট অনুসৃত বিষয়াদি বাস্তবায়নের একটি গ্রহনযোগ্য সমাধান
নির্ধারণে সদস্য দেশগুলো ব্যর্থতায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
অষ্টম দফায়: উন্নত দেশগুলোর তুলার ওপর ভর্তুকি
দেয়ার কারণে আফ্রিকার যেসব দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ
করা হয়। এ ভর্তুকির নেতিবাচক প্রভাবের ফলে লাখ লাখ কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
এক্ষেত্রে আফ্রিকার প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানানো হয়।
নবম দফায়: এলডিসির বাজার প্রাপ্তি সুবিধা বাড়াতে
কিছু দেশের গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করা হয়।
দশম দফায়: বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতার কারণে এলডিসির
জন্য প্রদত্ত বাজার সুবিধার সামান্য অংশ্ই এসব দেশ কর্তৃক সদ্ব্যবহার করেত পারার
বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
১১তম দফায়: বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যবস্থায় এলডিসিকে
একীভূতকরণের লক্ষ্যে অর্থবহ বাজারপ্রাপ্তি, উত্পাদন ও রফতানি ভিত্তি বহুমুখীকরণে
সাহয়তা দান এবং বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট কারিগরি সহায়তা ও সক্ষমতা অর্জনের বিষয়টি
বাণিজ্যমন্ত্রীরা দোহার স্বীকৃতি দেয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
১২তম দফায়: বিদ্যমান স্পেশাল এন্ড ডিফারেন্সিয়াল
ব্যবস্থ অধিকতর সুনির্দিষ্ট ফলপ্রসূ এবং কার্যকর করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি না হওয়ায়
উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
১৩তম দফায়: কারিগরি সহায়তা কর্মসূচি এবং সমন্বিত
কার্যক্রম ব্যাপকভাবে কার্যকর করার বিষয়ে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
১৪তম দফায়: বিশ্ববাণিজ্য সংস্থায় এলডিসির জন্য
প্রবেশাধিকার নীতিমালাটি ডাব্লিউটিওর সাধারণ পরিষদে গৃহীত হওয়ার বিষয়টি লিপিবদ্ধ করা
হয়।
১৫তম দফায়: ১৩টি দাবি উত্থাপন করা হয় এবং ১৬তম
দফায় উপরোক্ত দাবিগুলো কানকুনে অনুষ্টেয় ডব্লিউটিওর সম্মেলনে উপস্থাপনের জন্য
সর্বসম্মত সিদ্ধন্ত হয়।
|